ধর্ষণের জন্য কি পুরুষ নাকি পোষাক দায়ী??
অনেককেই বলতে শুনছি, ধর্ষণের জন্য পুরুষের বিকৃত মানুষিকতা দায়ী। নারীর পোষাক দায়ী না।
ধর্ষণের মূল কারণ হিসেবে বিকৃত মানষিকতা কে দায়ী করা হচ্ছে,এটা অবশ্যই সঠিক৷ আমিও এর পক্ষে। কিন্তু আমরা প্রশ্ন অন্য জায়গায়। এই বিকৃত মানুষিকতার পিছনের কারণ কেউ খুঁজছে না কেন?
একটা পুরুষ কি এমনি এমনি এমন জানোয়ারে পরিণত হয়? নাকি এর পিছনে কোন কারণ আছে? কি কারণ থাকতে পারে? সে কি জন্ম থেকেই মানুষিক ভাবে বিকৃত।
অবশ্যই ধর্ষণের জন্য পুরুষের বিকৃত মানুষিকতা দায়ী। কিন্তু এটাও আপনাকে মানতে হবে এই বিকৃত মানুষিকতার জন্য অশ্লীলতা দায়ী। এটা আপনাকে মানতেই হবে। এমনি এমনি কারও মস্তিস্ক বিকৃত হয়না। সবাই ধর্ষণের বিচার দাবী করছেন। আমিও করছি। কিন্তু ভাই ও বোনেরা, এটা বন্ধ করতে হলে আমাদের একদম রূট লেভেলে যেতে হবে। যেখানে এটার উৎপত্তি। সেই মূল টা উপড়ে ফেলতে হবে।
.
একজন মাদকাসক্ত মানুষ প্রথমেই মদ, ইয়াবা, হিরোইন এসবে যায় না। নিশ্চয়ই সে শুরু করে সিগারেট দিয়ে। যাকে সমাজ হালকা চোখে দেখে। আমি এখন পর্যন্ত এমন কোন মাদকাসক্ত মানুষ দেখিনি যার শুরুটা সিগারেট দিয়ে হয়নি। এটা হচ্ছে মূল। এটা থেকেই শুরু হয়ে সে একসময় বড় বড় নেশায় জড়িয়ে পরে। তবে হ্যাঁ, অনেকে সিগারেটেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু প্রত্যেকের শুরু এটা দিয়ে হয়। শেষ কোথায় হয় সে নিজেও জানেনা।
.
একইভাবে ধর্ষণ এর শুরুর দিকটা খেয়াল করতে হবে। এটা কি একদিনেই হচ্ছে? না। কেন হচ্ছে? বিকৃত মানুষিকতার জন্য হচ্ছে। এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পরই আপনারা বিচার দাবী করছেন। আর প্রশ্ন করছেন না। জানতেও চাইছেন না।কেন?
.
এক আপুকে ধর্ষণ বিরোধী আন্দলনে চিল্লিয়ে বলতে শুনলাম, আমি পোষাক পড়ব কি না পড়ব তাতে তোর কি? আমি সিগারেট খাবো কি না খাবো তাতে তোর কি? আমার বাবাই তো কিছু বলতে পারবে না! তুই কোন বা*?
.
উনার কথাগুলো শুনে বুঝাগেল যে উনি নিজের ইচ্ছামত যা ইচ্ছা করার অধিকার রাখেন। সমাজের উচিত উনাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। উনি কাপড় পড়বে কি পড়বে না। স্বাধীনতা উনার৷ কারণ দেশ স্বাধীন। উনি নিজের বিবেকে যা কাজ করছে তাই বলে যাচ্ছেন। কারণ উনার এসব কথা বলার মাপকাঠি কি? উনার নিজের ইচ্ছা। উনি কতটুকু কাপড় পড়বেন, গোটা শরীর ঢাকবেন নাকি খোলা রাখবেন এর মাপকাঠি কি? এটা কেউ ঠিক করে দেয়ার অধিকার নেই। একইভাবে ধর্ষক যদি বলে, আমার ইচ্ছা, যাকে ইচ্ছা ধর্ষণ করেছি। তুই বলার কে? এর আইন কি? মাপকাঠি কি? আঈন প্রণয়ণ কিসের ভিত্তিতে হবে?
.
দেখুন আমি কোন এক পক্ষকে দোষ দিচ্ছিনা৷ শুধু নারী জাতিকে দোষ দেয়া মানে নিজের মা,বোন আর স্ত্রীকে দোষ দেয়া। এক অন্যের পিছনে লেগে থাকলে সমাধান না। মূল উৎপত্তি, আর মূল টা অনেক গভীরে। এটা আড়াল করে বা অনেকে দেখেও না দেখার ভান করেন। অনেকে বুঝতেই চায়না।
.
পুরুষদের উচিত চোখের হেফাজত করা। কারণ চোখ দিয়ে সব কিছু ইনপুট হয়। পর্ণ, অশ্লীল ভিডিও, আইটেম সং থেকে শুরু করে যা আছে সব বর্জন করা। আর এতে মা বোনদের সাহায্য করতে হবে। আপনারা যা ইচ্ছা তা পড়ে ঘুড়ে বাহিরে বের হবেন আর আশাকরবেন যে কেউ আপনাদের দিকে তাকাবে না। এটা অবাস্তব কল্পনা। বরং উল্টা পালটা ড্রেস পড়ে নিজেকে খারাপদের চোখের শিকার করবেন না। অন্যের কাছে নিজেকে মালে পরিণত করবেন না। ইসলাম বলে নারীদের দিকে চোখ পড়লে সাথে সাথে সরিয়ে নিতে। ইসলাম বলে নারীদের দেহ ঢেকে রাখতে। পুরুষদের চোখের পর্দা করতে হবে, আর মেয়েদের দৈহিক গঠন ও সৌন্দর্যের পর্দা করতে হবে। ডা. জাকির নায়েক একবার বলেছিলেন, " যে ছেলের বেপর্দা মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকলে সমস্যা হয়না, তার সমস্যা আছে,তাকে ডাক্তার দেখাতে হবে।" একজন পুরুষ জানে এসব মুহূর্তে শয়তান তাকে কানে কানে কি বলে। কি চিন্তা তার মাথায় ঘুড়ে। বিবাহিত/অবিবাহিত সবাই এই সমস্যার মধ্যে দিয়ে যায়। তাই এসব আমাদের মেনে চলা উচিত।
.
কিছু মানুষকে বলতে শুনলাম, পর্দাই যদি কারণ হয় তাহলে মাদ্রাসার মেয়ে, বোরখা পড়া মেয়ে বা শিশু বা বৃদ্ধা কেন ধর্ষিত হয়? আমি একটু বুঝিয়ে বলি। পর্দা অবশ্যই কারণ, প্রথমত পুরুষের চোখের পর্দা না করা, এরপর নারীর পর্দা না করা। এখন ধরুন। আপনাকে আপনার অফিসের বস খুব কথা শুনিয়েছে। মেজাজ টা আপনার খুব খারাপ। অথচ আপনার দোষ তেমন ছিলনা। বিনা কারণে আপনাকে সে কথা শুনাচ্ছে। আপনার ইচ্ছে হচ্ছে বসকে ধরে কয়েকটা লাগিয়ে দিবেন। কিন্তু ক্ষমতা নেই। খারাপ মেজাজ নিয়ে বাসায় আসলেন। দেখলেন আপনার ছেলে পড়াশুনার সময় টিভি দেখছে বা খেলছে। আপনি আপনার সব রাগ ঝাড়লেন আপনার অবুঝ সন্তান আর আপনার স্ত্রীর উপর। অথচ তাদেরও তেমন কোন দোষ ছিলনা। ব্যাপারটা নরমাল লাগছে,তাইনা? মানুষ তো। এমন হতেই পারে৷
এবার আসুন, পর্ণে এ্যাডিকটেড একটি ছেলে। যার চোখের কোন পর্দা নেই। রাস্তার মোড়ে বসে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকে। একটু বেপর্দা মেয়ে দেখলেই বাজে মন্তব্য করে বসে। হয়তো পরিবার ও সমাজের কাছে সে অনেক ভদ্র। বাহির থেকে দেখলে কেউ বুঝবেই না যে ভিতরে সে একটা পশু লালন করছে৷ অশ্লীলতার সাথে তলে তলে জড়াতে জড়াতে সে এমন হয়ে গেছে যে, সে যখন রাস্তায় একটা সুন্দর ভদ্র ও মোটামুটি শালীন মেয়েকে দেখে তখনও তার মনেহয় ইস যদি পাইতাম। পর্ণ দেখতে দেখে তার মনে এমন বাসনার জন্ম নেয়। সে চিন্তা করে ইস যদি পাইতাম৷ কিন্তু তার ক্ষমতা নেই ওসব পর্নস্টার বা মডেলদের হাতে পাওয়ার৷ এমনকি স্কুল কলেজের ছোটবোন, ব্যাচমেট,বড় আপুদের প্রতি সে একই ধারণা রাখে। মনে বলতে থাকে ইশ যদি পাইতাম৷ সে এই কামনা লালন করে কিন্তু তার ক্ষমতা নেই ঠিক ঐ লোকের মত যে বসকে ২/১ টা লাগিয়ে দিতে চেয়েছিল কিন্তু ক্ষমতা নেই। তখন সেই মানুষরূপি জানোয়ার চড়াও হয় দূর্বলের উপর। যার উপর ঝাপিয়ে পড়ে সে তার খায়েস মিটাবে। সে বোরখা পড়াই হোক, বা শিশুই হোক। যায় আসেনা। তার খায়েস মিটলেই হলো।
.
এসব যে কথাগুলো বললাম। কোনটাই বানানো নয়। নিজের চোখে এসব কথা অন্যদের বলতে শুনেছি। তারা কিসব মনোভাব পোষণ করে তাও জানতে পেরেছি। আমার সামনেই বলতে শুনেছি ইশ যদি পাইতাম। বুঝিয়েছিলাম ও। যদি তোর বোনকে নিয়ে এসব মন্তব্য কেউ করে কেমন লাগবে? সে চুপ ছিল কিন্তু এরকম এ্যাডিক্ট এতই এডিকশনে ভোগে যা বলার মত না। এরাই একদিন ধর্ষণ করে। যদি ক্ষমতা থাকে আরকি। আর ক্ষমতা না থাকলে অন্য উপায় তো আছেই।
.
এত কথা কেন বললাম জানিনা। নিজের মনে যা ছিল বললাম৷ বিচার ব্যবস্থা কঠিন করতে হবে। সাথে সাথে অন্যদিকেও নজর দিতে হবে। ঘটনা ঘটে গেলে বিচার হলেও সেটা সমাধান না। সমাধান হলো ঘটনা যাতে না ঘটে সেটার জন্য কাজ করা।
.
এসব আমার নিজস্ব চিন্তা ভাবনা।
কোন মন্তব্য নেই